1. admin@ajkallondon.com : Ajkal London : Ajkal London
  2. ajkallondon@gmail.com : Dev : Dev
বিএনপি নির্বাচন চায়,নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে - Ajkal London
রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৩:০৬ অপরাহ্ন

বিএনপি নির্বাচন চায়,নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল, ২০২২
  • ৯৬ বার ভিউ

কমিউনিটি প্রতিবেদক: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “বিএনপি নির্বাচন চায়, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনের পর দল মত নির্বিশেষে গণতন্ত্রের পক্ষের সকলকে নিয়ে বিএনপি জাতীয় সরকার গঠন করবে। জাতীয় সরকারে গণতন্ত্র পক্ষের প্লাটফর্মের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ছাড়াও শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিত্বও থাকবে। জাতীয় সরকারের অধীনেই মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

৫১তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোমবার (২৮ মার্চ) লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক। আলোচনায় অংশ নেন, লন্ডন সফররত বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ টুকু, বিএনপির সাবেক এমপি জহিরউদ্দিন স্বপন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমানসহ অনেকে। সভা পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ।

তারেক রহমান বলেন, “দেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে বিএনপি, গণতন্ত্রকামী জনগণ এবং গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি। অপরদিকে রয়েছে, আওয়ামী লিগ, মাফিয়া আর গুম খুন অপহরণকারী চক্র। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মাফিয়া চক্র কিছু কিছু রাজনৈতিক দলকে তাদের সঙ্গে একত্রে নির্বাচন করার টোপ দিচ্ছে। তবে যারা মাফিয়াদের সঙ্গে হাত মেলাবে তাদেরকে জনগণ আওয়ামী লীগের দালাল হিসেবে চিহ্নিত করবে।”

তিনি আরো বলেন, “গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি, মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষের শক্তির মধ্যে দু’একটি বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে। যেমন এদের মধ্যে কেউ কেউ আবার জাতীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের পক্ষে।”

‘গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির প্রতি আহবান জানিয়ে’ তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের অনেকেই জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। ৭১ সালে যেভাবে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন আজ আপনাদের সামনে আবারো সময় এসেছে গণতন্ত্রের পক্ষে দাঁড়ানোর, গণতন্ত্রকামী মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোর’।

গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির সবার প্রতি আহবান জানিয়ে তারেক রহমান আরো বলেন, “জাতীয় সরকার নয় বিএনপি নির্বাচন চায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচনের পর জনগণের রায়ে পেলেও বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবেনা। বরং বর্তমান সরকার বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে যারা কিংবা যে সকল রাজনৈতিক দল গণতন্ত্রের পক্ষের প্লাটফর্মে থাকবে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে তারা বিজয়ী কিংবা বিজিত যাই হোক, সবাইকে নিয়েই বিএনপি জাতীয় সরকার গঠন করবে। কারণ বিএনপি বিশ্বাস করে ‘বর্তমান সরকার গত এক যুগে দেশে যে জঞ্জাল তৈরী করেছে এই জঞ্জাল যদি পরিষ্কার করতে হয়’ তাহলে দল মত নির্বিশেষে গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির সকল রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ এবং সুশীল সমাজের সমন্বয়ে জাতীয় বড় গঠন প্রয়োজন।”

তারেক রহমান বলেন, “গত এক যুগের বেশি সময় ‘বিনাভোটে ক্ষমতা কুক্ষিগত রেখে সরকার’ দেশের সকল সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব আজ হুমকির সম্মুখীন। সুতরাং এই ‘মাফিয়া শক্তির’ কবল থেকে দেশ পুনরুদ্ধারে রাজপথে বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের বিকল্প নেই।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “স্বাধীনতা দিবসের আলোচনায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষার আলোচনাটিই এই মুহূর্তে জনগণের সামনে মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তিনি বলেন, “সাম্য-মানবিক মর্যাদা-সামাজিক সুবিচার, এই মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন। সেই স্বাধীন বাংলাদেশের মানুষের সকল অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশেও একবার রাষ্ট্রের নাগরিকদেরকে ক্ষমতাহীন করে রাখার অপচেষ্টা হয়েছিল। তবে সেই অপচেষ্টা জনগণ সফল হতে দেয়নি। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতাকে সঙ্গে নিয়ে নৈরাজ্য থেকে দেশকে মুক্ত করেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, “৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের পরাজিত সেই অপশক্তি এখন মহাজোটের নামে একজোট হয়ে আবারো কেড়ে নিয়েছে নাগরিকদের সকল গণতান্ত্রিক অধিকার। দেশে এখন গণতন্ত্র নেই। ভোটাধিকার নেই। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নেই। সঠিক বিচার নেই, নেই আইনের শাসন। তথাকথিত ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্ট নামক অসভ্য আইন দিয়ে মানুষের কণ্ঠ রোধ করে রাখা হয়েছে।”

দেশের ২৩ তম প্রধান বিচারপতির নিয়োগ নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “গত ১৪ জানুয়ারী কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির দেয়া এক সংবর্ধনা সভায় নিজের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার বক্তব্যটির ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় রয়েছে। বক্তব্যে, প্রধান বিচারপতি নিজের নিয়োগ প্রসঙ্গে জানান, ‘প্রথমে আইনমন্ত্রী তাকে জানিয়েছেন, তিনিই হচ্ছেন দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি। তবে আইনমন্ত্রীর আশ্বাসে তিনি আশ্বস্ত হতে পারছিলেন না। নিশ্চিত হতে তিনি আওয়ামী লিগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফকে ফোন করে তার প্রধান বিচারপতি হওয়ার ব্যাপারে খোঁজ খবর নিতে বলেন।” তারেক রহমান বলেন “এই হলো দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগের অবস্থা। অথচ সংবিধান অনুসারে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেয়ার বিধান রাষ্ট্রপতির।” তার ভাষায় “এমন অধঃপতিত বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমেই সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রনোদিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ‘মাদার অফ ডেমোক্র্যাসি’ বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি বিচারের নামে অবিচার করা হয়েছে।”

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডাক্তার জালাল উদ্দিন, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, এবং যুক্তরাজ্য বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ সহ অনেকে। অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট ও স্বাধীনতার ঘোষক শীর্ষক একটি ডকুমেন্টারী প্রচারিত হয়। এর আগে যুক্তরাজ্য জাসাসের আয়োজনে পরিবেশিত হয় জাতীয় ও দলীয় সংগীত। – খবর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির

Google News

নিউজ শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর