1. admin@ajkallondon.com : Ajkal London : Ajkal London
  2. ajkallondon@gmail.com : Dev : Dev
সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি,দ্রুত পানি নামছে - Ajkal London
শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০২৪, ১২:৫৪ অপরাহ্ন

সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি,দ্রুত পানি নামছে

রিপোর্টার নাম
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০২২
  • ৮০ বার ভিউ

ইমরান মাহমুদ,সিলেট থেকে: সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে।দ্রুত পানি নামছে।বানের পানি সরে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।ভেসে উঠছে বন্যাক্রান্ত এলাকাগুলোর ভাঙাচোরা রাস্তা, সেতু, কালভার্টের ক্ষত চিহ্ন।সেই সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট নগরীর একাংশ জেলার ১২টি উপজেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। পানিবন্দি হয়ে পড়েন প্রায় ১২ লাখ মানুষ।বানের পানিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় সিলেটের গ্রামীণ অবকাঠামো। কৃষকের পাকা ধান ও গ্রামীণ রাস্তাঘাট ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বানের পানিতে ভেসে গিয়েছে হাজার হাজার পুকুরের মাছ। পানিবন্দিদের ব্যাপক দুর্ভোগের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব পড়েছে এ এলাকার সব শ্রেণী-পেশার মানুষের ওপর।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীসহ সিলেট সওজ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রায় ৫৩৬ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২৩০ ও সওজের আওতাধীন আটটি সড়কে ৫৫ কিলোমিটার পথ রয়েছে। এসব সড়কের বেশির ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ভেঙে গেছে কয়েকটি ব্রিজ ও কালভার্ট। বন্যার পানি নামতে শুরু করায় এসব ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের চিত্র ফুটে উঠছে। পানির তোড়ে স্থানে স্থানে ভেঙে গেছে বিভিন্ন সড়ক। সড়কের মাঝখানেই তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। পানি উঠে যাওয়া বেশির ভাগ সড়কেরই এমন অবস্থা দেখা গেছে।
তবে অনেক সড়ক এখনও পানির নিচে ডুবে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করতে পারছে না সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ), স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) এবং সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতাধীন সিলেট জেলার ১০টি উপজেলার ৬৬ সড়কে ২৩০ কিলোমিটার তলিয়ে গিয়েছিল। এসব সড়ক থেকে পানি নেমে যেতে শুরু করেছে। এ দপ্তরের প্রাথমিক হিসাব মতে, ১৭২ কোটি ২৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। নতুন করে প্লাবিত এলাকাগুলোর পানি নেমে গেলে এ ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কবীর জানান, জেলার গোয়াইনঘাটে ২৭টি সড়কে ৮২ দশমিক ১৩ কিলোমিটার, কানাইঘাটে ১৫টি সড়কে ৩০ দশমিক ৫, জৈন্তাপুর উপজেলার ১১টি সড়কে ৩২ দশমিক ১, সিলেট সদরের ১২টি সড়কে ২১ দশমিক ৩৮, গোলাপগঞ্জে ১০টি সড়কে ২২ দশমিক ৩, কোম্পানীগঞ্জে চারটি সড়কে ৩৪ দশমিক ৬৩, দক্ষিণ সুরমার চারটি সড়কে সাড়ে তিন, ফেঞ্চুগঞ্জে একটি সড়কে দেড়, ওসমানীনগর উপজেলায় একটি সড়কের প্রায় দেড় ও বালাগঞ্জে একটি সড়কে দেড় কিলোমিটার সড়ক ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। অনেক সড়ক এখনও পানি থাকায় এখনই ক্ষয়ক্ষতির পুরো হিসাব মিলবে না। আরও কিছুদিন সময় লাগবে। তবে এ পর্যন্ত পাওয়া হিসাবমতে- বন্যায় আমাদের ১১১টি রাস্তার ২৬৭ কিলোমিটার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়া সিলেট সদর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ২টি কালভার্ট ভেঙে গেছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, জেলায় সওজের আওতাধীন গোয়াইনঘাট উপজেলায় ১২ দশমিক ৪০ কিলোমিটার, সিলেট-তামাবিল-জাফলং সড়কের ১ দশমিক ২০, কানাইঘাটের দরবস্ত-কানাইঘাট-শাহবাগ সড়কের ১৪ দশমিক ৮০ এবং সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের ৬ দশমিক ৫০ কিলোমিটার, বিশ্বনাথ উপজেলার রশিদপুর-লামাকাজি সড়ক, কোম্পানীগঞ্জ-ছাতক সড়ক, শেওলা-সুতারকান্দি সড়ক এবং বিমানবন্দর-বাদাঘাট-কুমারগাঁও সড়কের বিভিন্ন অংশ বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব সড়কের বেশিরভাগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বন্যায় সওজ’র প্রায় ৬৫ কিলোমিটার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এখনও পানি পুরোপুরি না নামায় ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায়নি।বন্যায় নগরীর সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার ১৪টি ওয়ার্ডের প্রায় ২৫০ কিলোমিটার সড়কই ছিল পানির নিচে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পুরো হিসাব মিলেনি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি সরেজমিন সব দেখে প্রতিবেদন দেয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
তিনি বলেন, বন্যার পানিতে নগরীর মোট সড়কের অর্ধেকই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক সড়ক থেকে এখনো পানি নেমে যায়নি।

Google News

নিউজ শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর